India-China Relation: 'ভারত-চিনকে আলাদা করা যাবে না, কোনও কোনও দেশ চায় না যে..', US-কে নিশানা ড্রাগনের
চিনা রাষ্ট্রদূত যে মন্তব্য করেছেন, তা ভারত-চিন সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তখন কূটনৈতিক স্তরে এই ধরণের বার্তা বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভারত ও চিনের সম্পর্ক সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তারইমধ্যে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং দু'দেশের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ভূ-রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ভারত ও চিনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা কোনও বাইরের শক্তির দাক্ষিণ্যের ফল নয়, বরং এটি দুই দেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভারত এবং চিনকে আলাদা করা যাবে না। অন্য কারও উপরে সেটা নির্ভর করে না বলে দাবি করেছেন চিনা রাষ্ট্রদূত।
মার্কিন মন্তব্যের কড়া জবাব
চিনা রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নাম না করে আমেরিকার সমালোচনা। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, অতীতে চিনের ক্ষেত্রে যে ভুল করা হয়েছিল, সেটা ভারতের ক্ষেত্রে করা হবে না। এই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই চিনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভারত ও চিন যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কারও উদারতা বা দাক্ষিণ্যের কারণে হয়নি। আমাদের এই উন্নতি আমাদের নিজস্ব মেধা এবং শ্রমের ফল।’ তিনি আরও যোগ করেন যে কোনও তৃতীয় শক্তির উচিত নয়, দু'দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ানো।
অবিচ্ছেদ্য প্রতিবেশী ও পারস্পরিক স্বার্থ
চিনা রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ভারত ও চিনকে 'অবিচ্ছেদ্য প্রতিবেশী' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এই দুই দেশ একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে পারে না। তাই বিবাদের চেয়ে সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাঁর মতে, ভারত ও চিন উভয়ই বর্তমানে জাতীয় পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করছে। এই সময়ে একে অপরের সাফল্যকে বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
বিভ্রান্তি ও 'চিন আতঙ্ক' নিয়ে সতর্কতা
রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ভারত ও চিনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারা প্রতিনিয়ত ‘চিন আতঙ্ক’ নামক ধারণাটি প্রচার করে দু'দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে চায়। চিনা রাষ্ট্রদূত ভারতের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনও নির্দিষ্ট তথ্যের গণ্ডিতে আটকে না থেকে নিরপেক্ষভাবে সত্যকে অনুধাবন করে। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে এই কৃত্রিম দূরত্ব দূর করা সম্ভব।
গ্লোবাল সাউথ ও নতুন আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা
এশীয় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ও চিনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন সংরক্ষণবাদ বাড়ছে, অন্যদিকে একতরফাবাদের কারণে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দুই প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ভারত ও চিনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় এই দুই শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।
Source: www.hindustantimes.com


