Indian Tankers Crossed Hormuz: হরমুজ অতিক্রম ভারতের আরও ২ LPG ট্যাঙ্কারের, মাঝ সমুদ্রে উঠল 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান
ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা 'ভারত মাতা কি জয়' এবং 'বন্দে মাতরম' স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেল ও এলপিজি সংকট দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ দেশের জাহাজকে যেতে দিচ্ছে না ইরান। হরমুজ প্রণালী জুড়ে জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। সমুদ্রতলে পেতে রাখা হয়েছে মাইন। এর জেরে অধিকাংশ দেশের তেলবাহী জাহাজ হরমুজ দিয়ে যেতে পারছে না। তবে এরই মধ্যে ভারতকে বন্ধুপ্রতিম দেশ আখ্যা দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে এলপিজি বোঝাই আরও দুটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে রবিবার।
এই ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা 'ভারত মাতা কি জয়' এবং 'বন্দে মাতরম' স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় নাবিকরা ভারতের পতাকাও ধরে ছিলেন। এদিকে হরমুজ অতিক্রম করার পরে এই ভারতীয় জাহাজগুলিকে এসকর্ট করে নৌবাহিনীর রণতরী। এই দুই ট্যাঙ্কারে করে ৯৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে। ট্যাঙ্কারগুলি ১ এপ্রিলের মধ্যেই ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বিডাব্লু টিয়ার এবং বিডাব্লু এলম ট্যাঙ্কারগুলি যথাক্রমে ৩১ মার্চ মুম্বই এবং ১ এপ্রিল নিউ ম্যাঙ্গালোরে এসে পৌঁছবে। এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের ১৮টি জাহাজ অতিক্রম করেছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, ভারতের বন্দরগুলিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভারতীয় কোনও জাহাজের যাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভারতের জাহাজগুলি অনায়াসে হরমুজ পাড়ি দিলেও এখনও শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ সেখানে আটকে আছে। হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।
Source: www.hindustantimes.com


