UPSC Success Story: বয়স ২২, মোটে ১ বছরের প্রস্তুতি, কীভাবে ‘কঠিনতম’ পরীক্ষা পাশ করে IAS হলেন অনন্যা?
প্রথম চেষ্টাতেই কেল্লাফতে! জানুন ইউপিএসসি টপার আইএএস (IAS) অনন্যা সিং-এর সাফল্যের গোপন মন্ত্র। মাত্র এক বছরের প্রস্তুতিতে কীভাবে ৫১ র্যাঙ্ক পেলেন তিনি? পরীক্ষার্থীদের জন্য রইল তাঁর বিশেষ টিপস ও স্ট্র্যাটেজি।
ভারতের কঠিনতম পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেন, কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেন মাত্র কয়েক হাজার। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন অনন্যা সিং। কোনো কোচিং ছাড়াই নিজস্ব রণকৌশল তৈরি করে মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টাতেই অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৫১ অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজ তিনি দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
প্রাথমিক জীবন এবং মেধার পরিচয়
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা অনন্যা সিং ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। সেন্ট মেরিস কনভেন্ট স্কুল থেকে স্কুল শিক্ষা শেষ করেন তিনি। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯৮.২৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে তিনি নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপর দিল্লির লেডি শ্রী রাম কলেজ ফর উইমেন থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। স্নাতক চলাকালীনই তিনি সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।
এক বছরের কঠোর প্রস্তুতি ও টাইম ম্যানেজমেন্ট
অনন্যা জানান, ইউপিএসসি-র প্রস্তুতির জন্য তিনি মাত্র এক বছর সময় পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি গুরুত্ব সহকারে পড়াশোনা শুরু করেন। তাঁর মতে, প্রস্তুতির শুরুর দিকে প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করা জরুরি। তবে পরীক্ষার আগে এই সময় বাড়িয়ে ১২-১৫ ঘণ্টা করতে হতে পারে। তিনি নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা রুটিন ফলো না করে ছোট ছোট লক্ষ্য (Short-term targets) স্থির করে পড়াশোনা করতেন।
বই নির্বাচনের কৌশল
অনন্যা সিং-এর মতে, অনেক বই পড়ার চেয়ে সীমিত বই বারবার পড়া বেশি কার্যকর। তিনি প্রথমে এনসিইআরটি (NCERT) বইগুলো দিয়ে নিজের ভিত্তি শক্ত করেছিলেন। এরপর স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্স বইগুলো অনুসরণ করেন। তাঁর মতে, বারবার রিভিশন দেওয়া এবং নিজের হাতে নোটস তৈরি করা সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কলাম নিয়মিত পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন, যা ইন্টারভিউ এবং মেইনস পরীক্ষায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লিখতে সাহায্য করে।
ইন্টারভিউ এবং আত্মবিশ্বাস
অনন্যা মনে করেন, ইউপিএসসি কেবল জ্ঞানের পরীক্ষা নয়, এটি ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা। প্রথমবারেই ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর কাছে রোমাঞ্চকর। সেখানে উপস্থিত সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর স্পষ্টবাদিতা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকে, তবে অযথা অনুমান না করে বিনয়ের সাথে তা স্বীকার করা ভালো।
হতাশা কাটিয়ে এগিয়ে চলার মন্ত্র
প্রস্তুতির সময় অনেক সময় একঘেয়েমি বা ক্লান্তি আসে। অনন্যা জানান, তিনি যখনই ক্লান্ত বোধ করতেন, গান শুনতেন বা পরিবারের সাথে সময় কাটাতেন। নিজের শখ বা প্যাশনকে একদম বিসর্জন না দিয়ে পড়াশোনার সাথে তার ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার।
নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য অনন্যার পরামর্শ
১. সিলেবাস বুঝুন: প্রথমেই ইউপিএসসি-র বিশাল সিলেবাসটি ভালো করে আয়ত্ত করুন।
২. প্রিভিয়াস ইয়ার কোয়েশ্চেন: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে পরীক্ষার ধরণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়।
৩. মক টেস্ট: মক টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনা এবং ভুলের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা যায়।
৪. ধৈর্য ও অধ্যাবসায়: ইউপিএসসি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, তাই ধৈর্য হারানো চলবে না।
অনন্যা সিং প্রমাণ করেছেন যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করলে প্রথম প্রচেষ্টাতেই জয় পাওয়া সম্ভব। আজকের দিনে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই দক্ষ অফিসারটি প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণেও দিশারি হয়ে কাজ করছেন।
Source: www.hindustantimes.com


