Indian Navy Warship Triplets: চিনের চাপ বাড়বে! একইদিনে ভারতীয় নৌসেনাকে ৩ রণতরী দিল কলকাতা, আছে ব্রহ্মস মিসাইল
ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে ঐতিহাসিক দিন! কলকাতার GRSE একইদিনে নৌসেনার হাতে তুলে দিল দুনাগিরি, অগ্রেয় ও সংশোধক-এর মতো তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। জানুন এই রণতরীগুলোর বিশেষত্ব এবং কীভাবে এগুলি সমুদ্রের বুক থেকে শত্রু বিনাশ করতে সক্ষম
ভারতের সামুদ্রিক সুরক্ষায় সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করে একই দিনে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হল তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ (আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক, আইএনএস অগ্রেয়)। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের তরফে সেই তিনটি রণতরী তুলে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নৌসেনার হাতে। আর তারর ফলে ভারত মহাসাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত আধিপত্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
দুনাগিরি (স্টেলথ ফ্রিগেট)
'দুনাগিরি' হল প্রজেক্ট ১৭এ-র অধীনে নির্মিত নীলগিরি শ্রেণির পঞ্চম রণতরী। এটি একটি গাইডেড-মিসাইল স্টেলথ ফ্রিগেট, যার দৈর্ঘ্য ১৪৯ মিটার এবং ওজন প্রায় ৬,৬৭০ টন। এই জাহাজটির বিশেষত্ব হল রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা বা 'স্টেলথ ফিচার'। এটি অত্যাধুনিক সেন্সর এবং অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, যার মধ্যে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শক্তিশালী রণতরীটি আকাশপথ, সমুদ্রের উপরিভাগ এবং জলের তলদেশে বহুমুখী হামলা চালাতে সক্ষম।
অগ্রেয় (অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ)
সমুদ্রের অগভীর জলে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ শনাক্ত করতে এবং সেগুলিকে ধ্বংস করতে 'অগ্রেয়' জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটি ওয়াটারজেট প্রপালশন প্রযুক্তিতে চালিত, যা একে দ্রুত গতি এবং চটজলদি মোড় ঘোরার ক্ষমতা প্রদান করে। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি টর্পেডো এবং রকেট লঞ্চারে সজ্জিত। অগভীর জলে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংশোধক (সার্ভে ভেসেল বা লার্জ সার্ভে শিপ)
১১০ মিটার দীর্ঘ 'সংশোধক' মূলত সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি এবং হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের জন্য নির্মিত। তবে কেবল সমীক্ষা নয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এটি একটি ভাসমান হাসপাতাল হিসেবে কাজ করতে পারে এবং হেলিকপ্টার অপারেশনে সহায়তা দিতে সক্ষম। গভীর সমুদ্রে তথ্য সংগ্রহ এবং কৌশলগত অবস্থানে নজরদারি চালানোর জন্য এটি ভারতের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ।
চিন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবিলায় ভারতের নৌ-শক্তি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একইদিনে তিনটি ফ্রন্টলাইন প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি চিনের কাছে একটি কড়া বার্তা। এই জাহাজগুলি ভারতীয় নৌসেনার নজরদারি এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে এমন এক স্তরে নিয়ে যাবে, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে 'দুনাগিরি'-র মতো স্টেলথ ফ্রিগেট শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে আঘাত হানতে সক্ষম, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আত্মনির্ভর ভারতের সার্থকতা
এই তিনটি জাহাজেই ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। জিআরএসইয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারত এখন উচ্চমানের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিপইয়ার্ডটি এ ইপর্যন্ত মোট ১১৮টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৮০টি কেবল ভারতীয় নৌসেনার জন্য। বর্তমানে আরও ৩০টি জাহাজের কাজ করছে, যার মধ্যে ১৩টি রফতানি করা হবে।
Source: www.hindustantimes.com


